x

এইমাত্র

  •  মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৫ লাখ ৩৬ হাজার, আক্রান্ত ১ কোটি ১৫ লাখেরও বেশি
  •  বড় নিয়োগ আসছে প্রাথমিকে
  •  এবারের হজে কাবা স্পর্শ করা নিষিদ্ধ

৩ ডিসেম্বর বরগুনা মুক্ত দিবস

২১ মুক্তিযোদ্ধা শত্রুমুক্ত করেছিলো পায়রা ও বিষখালী তীর

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৫

জয় কর্মকার

আজ ৩ ডিসেম্বর বরগুনা হানাদার মুক্ত দিবস। ৭১ এর ডিসেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনীর একেরপর এক হামলায় পাক হানাদারেরা তখন দিশেহারা। এই মাসের শুরু দিক থেকে বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের বেশে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। মুক্তিবাহিনীর সাথে পেরে উঠতে না পেরে পাকিস্তান বাহিনী হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, নির্যাতন বাড়িয়ে দিল আগের চাইতে বেশি পরিমাণে।

১৯৭১ সালের এই দিনে মাত্র ২১ জন মুক্তিযোদ্ধার হাত ধরেই মুক্ত হয় বরগুনাবাসী। মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীনের বরগুনাকে মুক্ত করতে দেশের সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা ৩ ডিসেম্বরকে বেছে নেন। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা ফজরের আজানকে টাইম কোড ধরে এক যোগে ওপেন ফায়ার করে দখলে নেয় বরগুনা থানা।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বরগুনার বিভিন্ন থানা ও তৎকালীন মহাকুমা সদরে পাক বাহিনী অবস্থান করে পৈশাচিক নারী নির্যাতন ও নির্বিচারে গণহত্যা চালায় এবং ১৯৭১সালের ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা জেলখানায় ৭৬ জনকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। সময়ের ব্যবধানে কয়েক মাসের মধ্যেই বরগুনার মুক্তিযোদ্ধারা শক্তি অর্জন করে মনোবল নিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। বরগুনা, বামনা, বদনীখালী ও আমতলীতে যুদ্ধের পরে পাকবাহিনীর সদস্যরা বরগুনা ট্রেজারি, গণপূর্ত বিভাগের ডাকবাংলোয়, জেলখানা ও থানায় অবস্থান নেয়।

বরগুনার বুকাবুনিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ এর ২ ডিসেম্বর রাতে বরগুনা বেতাগী থানার বদনীখালী বাজারে আসেন। এরপর রাত তিনটার দিকে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে ২১ জন মুক্তিযোদ্ধা নৌকা যোগে বরগুনার খাকদোন নদীর পোটকাখালী এলাকায় অবস্থান নেন। পরে রাতেই কারাগার, ওয়াপদা কোলনী, জেলা স্কুল, সদর থানা, ওয়ারলেস স্টেশন, এসডিওর বাসাসহ বরগুনা শহরকে কয়েকটি উপ-বিভাগে ভাগ করে ফজরের আজানকে টাইম কোড করে এক যোগে ছয়টি স্থান থেকেই হামলা শুরু করেন।

এ সময় দলনেতা সত্তার খান ছিলেন কারাগার এলাকায়। এসময় তিনি জেলখানায় অবস্থানরত পুলিশ ও রাজাকারদের আত্মসমর্পণ করিয়ে এসডিও অফিসের সামনে নিয়ে আসেন। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা গিয়ে স্বাধীনতাকামী তৎকালীন এসডিও আনোয়ার হোসেনকে আত্মসমর্পণ করান। দুপুর বারোটার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা প্রশাসনিক দায়িত্ব এসডিওকে সাময়িকভাবে বুঝিয়ে দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বুকাবুনিয়া সাব-সেন্টারে চলে যান। আমতলী থানাকে আঃ রব,আনছার কমান্ডার আলতাফ হোসেন, পাশা তালুকদার, আফাজ বিশ্বাস, নিজাম উদ্দিন তালুকদার ও আসমত আলী কেরানীর নেতৃত্বে মুক্ত করা হয়। সুবেদার আঃ মোতালেব, মোবারক মল্লিক এবং অন্যান্য কমান্ডাররা সম্মিলিতভাবে বামনা থানাকে মুক্ত করেন। এভাবে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা শত্রুমুক্ত হয়। 

তারপর বরগুনা সদর সহ বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনবাংলাদেশের পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে সাধারণ জনগন। বরগুনা জেলা ডাকঘর এর সামনে থেকে বিজয় মিছিল শুরু হয়। মাত্র ২১ জন মুক্তিযোদ্ধার অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের কথা চারদিকে ছড়িয়ে যায় মুহূর্তেই। এভাবেই বিজয়স্বাদ উপভোগ করতে থাকে পায়রা ও বিষখালী তীরের মুক্তিকামী জনগণ। 

লেখক: গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত