x

এইমাত্র

  •  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে জানালার গ্রিলে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় একজনের মৃতদেহ উদ্ধার

'সম্রাট যাদের টাকা দিত, তাদের নাম বলেছে'

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:৪৭

যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট বর্তমানে রয়েছে র‍্যাবের হেফাজতে। র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানাচ্ছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জানা গেল, যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের উচ্চপদস্থ দুই নেতা ছাড়াও আরও অনেককেই চাঁদার টাকা পাঠাতেন এই সম্রাট।

বেশ কিছুদিন যাবৎ ধরে 'সম্রাট কোথায়' এমন প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাওয়ার পর গত রবিবার কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে আলোচিত 'ক্যাসিনো সম্রাট'-কে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। সম্রাটকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায় কাকরাইলের ভুঁইয়া ট্রেড সেন্টারে। 

ভুঁইয়া ট্রেড সেন্টারের অভিযান থেকে বন্য প্রানীর চামড়া পায় র‍্যাব। তাতে সম্রাটকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া, অস্ত্র ও মাদক রাখার দায়ে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয় সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানের বিরুদ্ধে।

অভিযানের সাথে জড়িত এক র‍্যাব সদস্য জানিয়েছেন, ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযানের সময় সম্রাট কেঁদে ফেলেন। কখনো ভাবেননি তিনি গ্রেপ্তার হবেন।

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানিয়েছে, ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারটি তিনি দখলে নিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রসহ ঢাকার এক ডজন ক্লাবের জুয়া ও ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করতেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাঈদকে দিয়ে তিনি ক্যাসিনো চালাতেন। এ ছাড়া তিনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এসব খাতের টাকা সম্রাটের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত আরমানের কাছে জমা হতো। ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির টাকার একটি বড় ভাগ যেত যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতার পকেটে। সম্রাট মাঝেমধ্যে ক্যাসিনো খেলতে সিঙ্গাপুরে যেতেন। একাধিক দেশে টাকা পাচার করার কথা স্বীকার করেন তিনি।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, সম্রাট তার টাকার উৎস সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন। সম্রাট যাদের টাকা দিতেন, তাদের নাম বলেছেন। সম্রাটের বিরুদ্ধে করা অস্ত্র ও মাদকের মামলা দু-এক দিনের মধ্যে তদন্তভার পাবে র‍্যাব-১। রিমান্ড পাওয়া গেলে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত