x

এইমাত্র

  •  করোনায় রেকর্ড ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
  •  করোনায় সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৪ জন
  •  করোনায় বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ৬৫ লাখের অধিক, সুস্থ হয়েছেন ৩১ লাখেরও বেশী
  •  বাংলামোটরে বাসচাপায় প্রাণ গেল দুজনের
  •  করোনাভাইরাসঃ বাংলাদেশে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৪২৩ জনের

তোর আব্বারে ভিসি বানাই দি, দেখি তোর বাবা বিশ্ববিদ্যালয় কেমন চালায়

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৩৬

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য ড. খন্দকার নাসির উদ্দিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবারো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।  আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে রুমে ডেকে নিয়ে তিনি তাদের গালিগালাজ করেন।

রুমে ডেকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিভ ফাঁস হয়েছে। অডিওতে শোনা যায়, শিক্ষার্থীদের গালাগাল ও তাদের বাবা-মা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন তিনি।

অডিও ক্লিপে শিক্ষার্থীদের বিভিন্নজনকে বলা কথাগুলো ছিলো মোটামুটি এমন, ‘এ তোর আব্বা কী করে? তোর আব্বারে ভিসি বানাই দি (বানিয়ে দিই)। দেখি তোর বাবা বিশ্ববিদ্যালয় কেমন চালায়। কী আগুন জ্বালাবি এ জানায়োর। এ... কী আগুন জ্বালাবি, কেন জ্বালাবি, কোন কোন জায়গা জ্বালায় আইছিস (এসেছিস)। তোরে তো এখন লাথি দিয়ে বের করে দিতে ইচ্ছা করতিছে (করছে)। এ কোনডারে (কাকে) ছাড়বেন। এর একটা থেকে আরেকটা বেশি। এদের কথা শুনলি (শুনলে) মরা মানুষ তাজা হয়ে যাবে...।

পাশে বসে কোন শিক্ষার্থী ফেসবুকে কী স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তা পড়ে শোনাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভূইয়া। শুধু ওইসব শিক্ষার্থীকেই নয়, তাদের বাবা-মাকে ডেকে এনেও শোনানো হয়েছে কটু কথা। অপমান করা হয়েছে।

প্রক্টর এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়ছিলেন, ‘স্যার ও লিখেছে প্রতিবাদ করলে বহিষ্কার করবে তো? করুক, কয়জনকে বহিষ্কার করবে। আমরা তো অন্যায় কিছু করিনি।’ এ কথা শুনে উপাচার্য বললেন, ‘তয় তুরা (তোরা) চালা আইসা (এসে) ইনভারসিটি (ইউনিভার্সিটি)। তোর বাপরা আইসা, মায়েরা আইসা চালাক। আমরা ছাইড়া (ছেড়ে) দি (দেই)। এ যা বাইর (বের হ), যা বের হয়।’ এ সময় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বারবার ক্ষমা চাইছিলেন। তাতেও থামছেন না উপাচার্য নাসির।

এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছিল এক শিক্ষার্থীর মায়ের কান্নাজড়িত কণ্ঠে সন্তানকে ক্ষমা করে দেওয়ার আকুতি। আবার উপাচার্য বলছেন, ‘এ আপনার ছেলে কোনডা (কোনটা)? কী করেন আপনি? ও শিক্ষক আপনি? আপনার ছেলে লেখছে কিন্ডারগার্টেন এটা। কিন্ডারগার্টেনে আপনার ছেলেকে ভর্তি করছেন কেন? এ কিসের জন্যি কিন্ডারগার্টেন লেখছিস? লাথি দিয়ে তোরে ফেলে দেব এই জায়গা থেকে। এ জানোয়ার। তোর চৌদ্দ পুরুষের সাধ্য ছেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। তুই তো জীবনেও চান্স পাতি না। আমি এ বিভাগ খুলছিলাম বলে তুই চান্স পাইছিলি। কোন বিশ্ববিদ্যাল থেকে এ জায়গায় কী কী খারাপ তুই ক। তোর শাস্তি অবেই (হবেই)। সবাই যদি কয় কেজিতি পড়ি। তলিতো আমি ভিসি থাকি না। আমি তো হেডমাস্টার হইয়া যাই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই দিন বিভাগের সবাই গিয়েছিলাম ছয়জনের জন্য সুপারিশ করতে। কিন্তু ভিসি স্যার শুধু ওই ছয়জনকেই না পুরো বিভাগের সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। তিনি সবাইকে ‘জানোয়ারের বাচ্চা, ক্লাসরুম দিয়ে তোদের শ্রাদ্ধ দেব, তোদের মতো কুলাঙ্গার জন্ম দিয়ে তোদের বাপ মহা অন্যায় করছে, তোর কোন বাপরে আনবি নিয়ে আয়, তিনদিনের বাছুর নেতা হইতে আইছিস’- এমন সব কথা বলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত