x

এইমাত্র

  •  বৈরুতে বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
  •  মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৭ লাখ ১৭ হাজার, আক্রান্ত ১ কোটি ৯২ লাখেরও বেশি
  •  ভারতে ২১ দিনে ১০ লাখ মানুষের করোনা শনাক্ত
  •  আবারো পাকিস্তানে ক্রিকেট ম্যাচে এলোপাতাড়ি গুলি

শিল্পবিপ্লবের উপযুক্ত জনশক্তি গড়ে তুলার আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৭

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযুক্ত জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী বাহিনী তৈরি করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে হবে।

আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ন্যাশনাল কনসালটেশন অন ফোর্থ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রিভ্যুলেশন এন্ড ফিউচার ওয়ার্ক শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিল্পমন্ত্রী এই কথা বলেন। জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) ও এটুআই যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) মো. আবুল কালাম আজাদ। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। ইউনিডোর আঞ্চলিক প্রতিনিধি ভ্যান বারকেল রেনে, এমসিসিআইর সভাপতি নিহাদ কবীর এবং আইএলসি বাংলাদেশের সিনিয়র স্পেশালিস্ট কিশোর কুমার সিং।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘পাঠ্যক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পখাতের অবদান বাড়ছে। চতুর্থ বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে রোবোটিকসহ নতুন নতুন বিষয় চালু করা হবে।’

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে নতুন নতুন আধুনিক শিল্প কারখানা স্থাপিত হচ্ছে। এসকল কারখানায় এদেশের প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। বেসরকারিখাতে যেসব বিষয়ে দক্ষ কর্মী বাহিনী প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও প্রশিক্ষণ দানে সহায়তা প্রদানের জন্য বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহবান জানান শিল্পমন্ত্রী।’

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এটুআইর পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী ও ইউনিডোর আঞ্চলিক প্রতিনিধি ভ্যান বারকেল রেনে।

আনির চৌধুরী বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে আগামী ২০ বছরে দেশে শ্রমখাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে তৈরি পোশাক শিল্পের ৩০ শতাংশ, ফার্নিচার শিল্পের ৬০ শতাংশ, চামড়াখাতে ৩৫ শতাংশ ও ট্যুরিজমখাতে ২০ শতাংশ সর্বমোট ৫৫ লক্ষ কর্মসংস্থান ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে, অল্প শিক্ষিত নারী শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্থ হবার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।’

ইউনিডোর আঞ্চলিক প্রতিনিধি ভ্যান বারকেল রেনে বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকালে মানুষ ও যন্ত্র টিমমেট হিসেবে কাজ করবে। এতে শক্তি ও জনশক্তির ব্যবহার কমবে। কাস্টম-মেড পণ্য কম খরচে পাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিতে মানব সম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারকরণ এবং এগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মাঝে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বাস্তবায়নাধীন ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে আগামী দিনের চাহিদা অনুসারে শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তিনি বর্তমানের নয়, আগামী দিনের প্রযুক্তি দেশে নিয়ে আসার জন্য দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান। লেট স্টার্টার হিসেবে এদেশের শ্রমশক্তি আগামী দিনের প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, সরকার দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে। বাজেটে এখাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান। পৃথিবীর একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২১০০ সালের সম্ভাব্য চাহিদাকে সামনে রেখে সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে মুখ্য সমন্বয় (এসডিজি বিষয়ক) উল্লেখ করেন।’

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘দেশের সর্বত্র জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ফান্ডের প্রস্তাব অর্থবিভাগে অনুমোদন। এটি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হতে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রশিক্ষণ প্রদানে সহায়তা ও তদারকি করবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে কাগজ-কলমভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে কন্টিনিউয়াস এসেসমেন্ট পদ্ধতি চালু করতে হবে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে সফটস্কিল বৃদ্ধির জন্য কন্টিনিউয়াস এসেসমেন্ট প্রক্রিয়া মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু করা হবে।’ আগামী দিনের শিল্পখাতের চাহিদা পূরণে যুযোগপযোগী পাঠ্যক্রম ২০২১ সালে চালু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাহস২৪.কম/জুবায়ের/শামীম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত