x

এইমাত্র

  •  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে জানালার গ্রিলে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় একজনের মৃতদেহ উদ্ধার

অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকেই অজ্ঞান হয়ে যান রাফি

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৩:১৯

ফেণীর চাঞ্চল্যকর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় তার ছোট ভাই রাশেদুল হাসান সোমবার (৮ জুলাই) ফেণীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মহামান্য বিচারকের উপস্থিতিতে তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার অসদাচরণের বর্ণনা দেন। তার মাকে অধ্যক্ষ সিরাজ কীভাবে শাসিয়েছেন সেই বর্ণনাও রয়েছে আদালতে তার দেওয়া সাক্ষ্যে।

আদালতকে রাশেদুল বলেন, 'নুসরাতের শ্লীলতাহানির খবর পেয়ে তার মা শিরীন আক্তার প্রতিবাদ জানাতে ২৭ মার্চ মাদ্রাসায় যান। এই সময় অধ্যক্ষ তার মাকে বলেন, 'বেশী বাড়াবাড়ি করলে তোর দুই ছেলেমেয়েকে লাল কলমের খোঁচায় মাদ্রাসা থেকে বের করে দেব।' তখন অধ্যক্ষের কক্ষে মাদ্রাসার সহসভাপতি রুহুল আমিন (আওয়ামী লীগ নেতা), কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ও ইমাম উদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। এর কিছুপরেই সোনাগাজী থানার এসআই ইকবাল হোসেন সেখানে পৌঁছান। পরে নুসরাতকে বাড়ি থেকে ডেকে আনলে সে অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকেই অজ্ঞান হয়ে যান। এসআই ইকবাল তখন নুসরাতকে কটাক্ষ করে বলেন, 'নাটক করছ কেন?' একসময় সেখানে উত্তেজনা বেড়ে গেলে অধ্যক্ষসহ সবাইকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেই দিন বিকেলেই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার মা বাদী হয়ে শ্লীলতাহানির মামলা করেন। পরবর্তীতে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সোনাগাজীর ওই মাদ্রাসায় নুসরাত ও তার ছোট ভাই রাশেদুল হাসান পড়াশোনা করতেন।

রাশেদুল আদালতকে আরও বলেন, '২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতের গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। খবর পেয়ে দ্রুত অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে গিয়ে বোনকে (নুসরাত) কান্না করতে দেখেন তিনি। কেন কান্না করছেন, জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব দেননি নুসরাত। এতে তার কান্না আরও বেড়ে যায়। তখন নুসরাতের বান্ধবী ফুর্তি (নাসরিন সুলতানা) ইশারা করে জানান, অধ্যক্ষ তার বোনের গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেছেন।'

রাশেদুল আদালতে যুক্ত করেন, 'কান্নারত অবস্থায় নুসরাতকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি তাদের মা জানতে পারেন। অধ্যক্ষের কক্ষে যাওয়ার সময় নুসরাতের দুই বান্ধবী নিশাত ও ফুর্তি সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষের নিষেধ থাকায় মাদ্রাসার পিয়ন নিশাত ও ফুর্তিকে কক্ষে ঢুকতে দেননি। তারা দুজন অধ্যক্ষের কক্ষের বাইরে ছিলেন।'

রাশেদুল আদালতে আরও বলেন, 'পরদিন ২৮ মার্চ নুসরাতের শ্লীলতাহানির বিচার চেয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সোনাগাজী উপজেলা সদরে মিছিল-মানববন্ধন হয়। মিছিল করার অপরাধে কাউন্সিলর মাকসুদ ও শাহাদাত হোসেন শামীম একাধিক ছাত্রকে গালমন্দ করেন।'

সাহস২৪.কম/জুবায়ের/জয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত