x

এইমাত্র

  •  মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা মোজাফফর আহমদ আর নেই

ব্যাংক গড়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র!

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:১৮

সাহস ডেস্ক

ব্রিটিশদের হাত থেকে পরাধীন ভারতকে মুক্ত করতে শুধু জাতীয় আন্দোলনই করেননি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু৷ তিনি গড়ে তুলেছিলেন ব্যাংকও৷ সেই ব্যাংকের নাম রেখেছিলেন আজাদ হিন্দ ব্যাংক। জাপানের সহায়তায় ১৯৪৩-এর ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে প্রথম ‘স্বাধীন’ ভারতীয় সরকার গড়েছিলেন৷ সেই সরকারের জন্য তার কিছুদিন পরে রেংগুণে তৈরি করেন এই ব্যাংকটি৷ মতান্তর থাকলেও ধরা হয় ১৯৪৪ সালের ৫এপ্রিল আজাদ হিন্দ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল৷

এই ব্যাংক থেকে বের হওয়া টাকায় ছিল বিপ্লবী নেতা সুভাষচন্দ্রের ছবি৷ ওই ব্যাংকের নোটের বিশেষত্ব ছিল তা কাগজের এক দিকই ছাপানো হত। ওই নোটে লেখা থাকত ‘ব্যাংক অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’, ‘আজাদ হিন্দ ব্যাংক’, ‘জয় হিন্দ’ ইত্যাদি৷ সুভাষচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকের শাখা সেই সময় জাপানের বহু জায়গাতে ছড়িয়েছিল৷ এই ব্যাংকের কারেন্সি নোট ইস্যু করা হয়েছিল প্রমিসরি নোট হিসেবে৷

শোনা যায় ব্রিটিশ বিরোধি আন্দোলনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অর্থের জোগান দেওয়া ছিল এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য৷ বিদেশে থাকাকালীন বহু প্রবাসী ভারতীয়দের কাছ থেকে সুভাষচন্দ্র আর্থিক সাহায্য পেয়েছিলেন৷ কিন্তু সেই অর্থ ও ধনসম্পত্তি যাতে কোনও ভাবেই অপব্যয় না হয় এবং সঠিক হিসাব থাকে সেই কথা ভেবেই আজাদ হিন্দ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়৷ সেই সব দান করা অর্থই ঐ ব্যাংকে সম্পদ হিসেবে গচ্ছিত ছিল বলে অনেকে মনে করেন৷ প্রাথমিক ভাবে এই ‘ব্যাংকের অথোরাইজ ক্যাপিটাল’ ছিল ৫০ লক্ষ টাকা এবং ‘পেড-আপ ক্যাপিটাল’ ছিল ২৫লক্ষ টাকা৷

স্বাধীন আজাদ হিন্দ সরকারে আয়ু অবশ্য বেশিদিনের হয়নি৷ একবছর দশ মাস অস্তিত্ব ছিল এই সরকারের৷ সেই সরকারে অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার এই ব্যাংকের উপরও প্রভাব পড়ে৷ মূলত জাপানি সাহায্য নিয়ে আজাদ হিন্দ সরকার গঠিত হয়েছিল৷ এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা ১৯৪৫সালের ৬ ও ৯ আগস্ট পর পর অ্যাটম বোম ফেলায় জাপান আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়৷ তখন জাপানের অবস্থার খারাপ হওয়ায় নেতাজির উদ্যোগও ধাক্কা খায়৷

এরপরেই বির্তর্কিত বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয় বলে প্রচারিত হলেও যা আজও অনেকেই বিশ্বাস করে না৷ তারপর থেকে নেতাজির অন্তর্ধান আজও রহস্যই থেকে গিয়েছে৷ আর সুভাষচন্দ্রের অর্ন্তধানের পরে পরেই এই ব্যাংকের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয় বলে ধরা হয়৷ তবে নেতাজি অন্তর্ধানের রহস্যের মতোই এখনও রহস্য আজাদ হিন্দ ব্যাংকের গচ্ছিত সম্পদ কোথায় গেল তা নিয়ে৷ মাঝে মাঝেই এই নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে৷

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত