পেঙ্গুইন দ্বীপ জর্জিয়া

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৬:৩৭

সাহস ডেস্ক

জার্জিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য। আর এটি একটি পাথুরে বিচ। আর হাজার হাজার পেঙ্গুইন সেখানে যেন মেলা বসিয়েছে। তাদের গায়ের সাদা-কালোয় পুরো বিচ যেন মোজাইক করা শৌখিন একটি লিভিং রুম। সেই মোজাইক দৃষ্টি থেকে যত দূরে গেছে পরিণত হয়েছে অগণিত সাদা কালো বিন্দুতে। এর মধ্যে আছে পশমি পাপ্স বার্ক, দুই টন ওজনের হাতি সিল গালুম্ফ এবং হিম শীতল সমুদ্রের অববাহিকা বিচরণ করে বেড়ানো আলবাট্রস।

দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ, এটি একটি শত মাইল লম্বা বিস্তৃত ক্রমবর্ধমান পিক যা উঠে এসেছে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে, আর্জেন্টিনার উষানিয়া থেকে ১৩০০ মাইল পূর্বে। ‘It’s complete sensory overload,’ বলেন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার লিন্ডব্লাড ভিডিওগ্রাফার এরিক ওয়েহমিস্টার। তিনি স্বল্প সংখ্যক ভ্রমণকারীদের একজন যারা এই দূরবর্তী দ্বীপে এসেছেন। জাহাজের নাবিক আর্নেস্ট সেকেল্টন এবং তার ক্রুদের প্রতিশ্রুত ভূমি এই দক্ষিণ জর্জিয়া। তিনি ১০০ বছর আগে এখানে এসেছিলেন ৮০০ মাইল পারি দিয়ে সাহায্যের সন্ধানে।

এই ব্রিটিশ বৈদেশিক টেরিটরিতে এখনও শুধু জাহাজেই যাওয়া সম্ভব। উষানিয়া থেকে পাঁচ দিনের এই সমুদ্রযাত্রা বেশ শ্রমসাধ্য। কারণ এখানে ফারেনহাইটের হিসেবে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা থাকে ২০ এর কোঠায়। কিন্তু একবার যদি সাহস করে চলে যেতে পারেন দেখতে পাবেন এমন সব পর্বত যেখানে কখনো কোন মানুষ পা রাখেনি, ফিন ব্লু হাইব্রিডের মত বিরল প্রজাতির তিমি এবং উঁচু কোমরের পেঙ্গুইন যারা কিনা এখনও তেমন আদিমই আছে যেমন ছিল আর্নেস্টের ভ্রমণের পূর্বে। 

কখন যাবেন
অক্টোবর থেকে মার্চ, অস্ট্রাল বসন্ত এবং গ্রীষ্মে।

কীভাবে বেড়াবেন
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপেডিশন এবং কোয়ার্ক এক্সপেডিশনসহ স্বল্প সংখ্যক ট্যুর পরিচালনা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ জর্জিয়ায় ট্রিপ আয়োজন করে থাকেন। তবে সমুদ্র এবং আবহাওয়ার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে।

কোথায় থাকবেন
কোন হোটেল নয়, কটেজ নয়, থাকতে হবে জাহাজেই। জাহাজগুলো এমনভাবে তৈরি যাতে প্রতিটি কেবিন থেকেই দ্বীপ এবং সমুদ্রের দৃশ্য দেখা যায়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপেডিশনে ৮০টি, কোয়ার্ক এক্সপেডিশনে ১০১টি কেবিন এবং স্যুট রয়েছে।

খাবার এবং পানীয়
সাধারণত জাহাজে খাবারের ব্যবস্থা আছে। তবে চেজ মানুতে খেতে যাবেন অবশ্যই। চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি এখানে আঞ্চলিক খাবার হিসেবে পাবেন পাটাগোনিয়ান মেষ শাবক, কিং ক্রাব ইত্যাদি। 

যাওয়ার আগে পড়ুন
যেকোন জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার আগে অবশ্যই সে জায়গার সর্ম্পকে কিছু পড়াশোনা করে যাওয়া ভাল। তাহলে আপনি আবহাওয়া, কোথায় কী দেখবেন ইত্যাদি অনেক ধারণা পাবেন আর ফেরার পর ‘দেখা হল না’  জাতীয় মনোকষ্টেও ভুগতে হবে না। দক্ষিণ জর্জিয়া ভ্রমণে পড়ুন  Information for Visitors to South Georgia 2015/16 এই বুকলেটটি। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত